
দূর থেকেই চোখে পড়বে সাদা আর লালের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে পদ্ম ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার পদ্ম দেখতে কার না ভালো লাগে!

সূর্যের সোনালি আভা পদ্ম পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে পদ্ম ফুলের সুবাস। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
জায়গাটি গাইবান্ধা জেলার মহিমাগন্জ ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩ কিমি উত্তরে অবস্থিত সাধারণ একটা জলাধার । লোকমুখে তা এখন পদ্ম বিল নামেই পরিচিত।

খুব বেশিদিন হবে না এখানে মানুষের আনাগোনা ছিল না বললেই চলে । হয়ত মানুষ জানতো কিন্তু এভাবে একটা নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থানে পরিচিতি পাবে তা কল্পনায়ই ছিল না ।
প্রতিদিন আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে স্থানটি পরিণত হয় ভ্রমণ পিপাসুদের মিলনমেলায় । সকাল বিকাল দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসে। এলাকার মানুষও আন্তরিক। তারাও অতিথিদের জানায় প্রাণবন্ত অভ্যর্থনা।স্থানটি ঘুড়ে দেখার জন্য রেখছে নৌকার ব্যবস্থা,ফলে আনন্দ উপভোগ করা সহজ হয়। দর্শনার্থীরা খুশি হয়ে যা দেয় তাই সই ফলে হতদরিদ্রদেরও দুমুঠো আহার এর ব্যবস্থা হয়।

কিন্তু দুঃখের সাথে জানাতে হয় দর্শনার্থীরা কারণে অকারণে ফুল তোলে। যার ফলে বিলটি হারাতে বসেছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমরা হারাচ্ছি পরবর্তী দেখার সুযোগ আর কিছু হতদরিদ্র হারাচ্ছেন তাদের রুজি উপার্জন। তাই আসুন আমরা সবাই অকারণে ফুল উত্তোলন বন্ধ করি , অতিথিদের আগমনের পথ সুগম করি ,অন্যের উপার্জন মাধ্যম বন্ধ না করি।
সৌন্দর্য আরও ছড়িয়ে দিতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করি। এলাকার সাধারণ মানুষ সবার কাছে করজোর নিবেদন করে বলেন ফুল না ছিড়ি এবং অন্যকে না ছেড়া বিষয়ে অবহিত করি ।
” ফুল প্রকৃতির হাতে কিন্তু
সৌন্দর্য রক্ষা আমাদের হাতে ”